
ডুমুরিয়া,নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ
পেশায় গ্রাম পুলিশ, পরিচয়ে মানুষের আপনজন। দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় তৈরি করেছেন মানবিকতার আলাদা পরিচয়। তিনি ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মধুসূদন মণ্ডল—স্থানীয় মানুষের কাছে যিনি একজন ‘মানবিক গ্রাম পুলিশ’ হিসেবে পরিচিত।মধুসূদন মণ্ডল বর্তমানে রংপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্থানীয়দের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।এলাকাবাসীর কাছে তিনি শুধু গ্রাম পুলিশ নন, অনেকের কাছে ‘ফেরিওয়ালা’ মধুসূদন নামেও পরিচিত। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এলাকার মানুষের নানা সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখেন এবং সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ডুমুরিয়া থানায় সেক্রেটারি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মধুসূদন মণ্ডল। দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও কর্তব্যনিষ্ঠার কারণে সহকর্মী ও স্থানীয়দের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ।স্থানীয়রা বলেন, গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব অনেক সময় কাগজে-কলমে ছোট মনে হলেও বাস্তবে গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মধুসূদন মণ্ডল সেই দায়িত্বকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের পাশে থাকার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন।তার এমন মানবিক আচরণ ও দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থা। গ্রাম পুলিশের পোশাকে একজন মানুষ যখন মানুষের দরজায় গিয়ে খবর নেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান—তখন তার পরিচয় শুধু ‘গ্রাম পুলিশ’ থাকে না, হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষের আপনজন।মধুসূদন মণ্ডলের এই মানবিক ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের সেতুবন্ধন তৈরির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
